বিডিনিউজ ১০ ডটকম ডেস্ক: আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস রমজান গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস। মহান রাব্বুল আলামিন মুমিনদের জন্য এ মাসে অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের সুযোগ রেখেছেন। আবার এ মাসে অল্প আমলেই আছে অনেক বেশি ফজিলত। অন্যদিকে মহিমান্বিত এ মাসেই পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হেদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
পবিত্র এ মাসে রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রমজান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শৃঙ্খলিত (শিকলবন্দি) করে দেয়া হয় শয়তানকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৭৮)
অন্যদিকে রমজান মাসের রোজা রাখার মধ্যদিয়ে পরকালে জান্নাত লাভেরও সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, এক মরুবাসী সাহাবী রাসুল (সা.) এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন- আমাকে এমন আমলের পথনির্দেশ করুন, যা আমল করলে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। জবাবে নবীজি তাকে বললেন- তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে কোনোকিছু শরিক করবে না, (পাঁচ ওয়াক্ত) ফরজ সালাত (নামাজ) আদায় করবে, ফরজ যাকাত আদায় করবে ও রমজানের সাওম (রোজা) পালন করবে।
পরে ওই সাহাবী বললেন, আমার প্রাণ যার হাতে তাঁর কসম, আমি এর উপর বৃদ্ধি (এর বেশি আমল) করব না। এরপর তিনি যখন ফিরে গেলেন তখন রাসুল (সা.) বললেন- কেউ যদি জান্নাতি লোক দেখতে আগ্রহী হয়, সে যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩১৫)
তবে দুই শ্রেণির মানুষ রয়েছে যাদের রোজা রেখেও কোনো লাভ হবে না। তাদের রোজা মহান রবের দরবারে কবুল হবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এই দুই শ্রেণির মানুষের বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়।
সহিহ বুখারির হাদিসটি হলো- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা আর মূর্খতা পরিত্যাগ করলো না আল্লাহর নিকট (সিয়ামের নামে) তার পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৩১)